সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন

মোঃ এনামুল হকঃ কলাপাড়ায় হাটবাজারে চাল,পেঁয়াজ ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চিনির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া কলাপাড়ার হাট বাজারগুলোতে সবজি এখন আর মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। গত তিন সপ্তাহের সময় ধরে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই প্রতি কেজি ৩০/৪০ টাকার উপরে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি চিনি খুচরা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। ডিমের হালি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ফার্মের মুরগির ডিম হালি ৪০ টাকা। ফার্মের মুরগীর মাংস ২৮০ টাকা। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। রোববার কলাপাড়া ও মহিপুর ঘুরে পাওয়া গেছে এ চিত্র। কলাপাড়া কাচা বাজারে সবজি সরবাহ পর্যাপ্ত সরবারহ থাকলেও সেই তুলনায় দাম একেবারেই আকাশছোঁয়া। দরিদ্র মানুষদের জন্য সবজি বাজার বলতে গেলে অনেকটা নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আর মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র।ক্রেতাদের বেশির ভাগই বাজারে আগাম ওঠা শীতের সবজি চোখে দেখেই স্বাদ মিটিয়ে নিচ্ছেন। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই প্রায় সব সবজি বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। এসব সবজির মধ্যে সিম কেজি ৮০ টাকা বেগুন ৭০ টাকা,কাকরল ৮০ টাকা শসা ৬০ টাকা করলা ৯০ টাকা, জিংগা ৮০ টাকা,ঢেরশ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। একই ভাবে কচুর লতি ৪০ টাকা বরবটি ৬০ টাকা পটল ৭০ টাকা আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা মুলা ৬০ টাকা টমেটো ২০০ টাকা,পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা,কাচা মরিচ ২০০, টাকা, কাচা কলা ৪০ টাকা হালি, ফুল কপি ১২০ টাকা, পাতাকপি ১০০ টাকা, বরবডি ১৬০ টাকা, লাল শাক ৮০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা তিন পিচ,(আটি) কুমার শাক ৬০ টাকা আটি, কলার থোর ৪০ টাকা আটি, কলার মোচরা আকার বেঁধে ২০০ টাকা, পানিকচু পিচ সর্বনিম্ন ৬০ টাকা, দরে বিক্রি হয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আড়ত মালিক মোঃ লালচান বিশ্বাসসহ তিন আড়ত মালিক সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে খুচরা শবজি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রাম থেকে কৃষকেরা শবজি নিয়ে বাজারে আসলে কৃষকদের
প্রতি খাজনাসহ নানাবিধ চাপ প্রয়োগ করে অল্প দামে নিজেরা শবজি ক্রেয় করে পরে তাদের নিজেস্ব হকারদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। কোন কৃষক প্রতিবাদ করলে লান্জ্ঞিত হতে হয়।
আড়তদারেরা লোকজনের চলাচলের রাস্তা আটকিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে হকারদের ডাল শাজি সাজিয়ে চড়া দামে শবজি বিক্রি করে থাকে।
এব্যাপারে একজন শ্রমিক আজাহার আলী খলিফা (৬০) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বাবা প্রতিদিন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পাই ৬ শত টাকা, সংসারে স্ত্রী,তিন পুত্র,দু ‘কন্যাসহ সাত জনের সঙসার। এতে প্রতিদিন সংসারে তিন কেজি চাল, ২৫০ গ্রাম ডাল,তেল ইত্যাদি ক্রয় করে তারপর শাকসবজি কেনার টাকা থাকে না। মাছ ও মাংস তো বছরেও দেখি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্যবিত্ত বলেন, আমাদের কিছু চাষি জমি আছে,তাতে বছরের খোরাক জোগার হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হয় না। তারপর ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তার উপর নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজারে মালামালের দাম অনেক বেশী।
এদিকে বাজারে মালামালের দাম স্থিতিশীল রাখতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন কয়েকদিন পরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে অসাধু ব্যবসায়ীদের জেল জরিমানা করেছেন।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply